বাউফল সালেহিয়া ফাযিল মাদরাসায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের শেষ নেই
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
-
১০
বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবু ছালেহ বিপ্লব বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো চীফ
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাউফল সালেহিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. নজিরুল হক ও তাঁর ভাই সহকারী অধ্যাপক আ.খ.ম. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে চরম স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগবিধি লঙ্ঘন, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মাদরাসার সাবেক গভর্নিং বডির দাতা সদস্য, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), পটুয়াখালী ও মাদরাসার সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ মো. নজিরুল হক ও তাঁর ভাই আ.খ.ম. রুহুল আমীন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম. ফিরোজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁরা মাদরাসাটিকে নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছেন। উপাধ্যক্ষ পদ ২০১৮ সাল থেকে শূন্য থাকলেও নিয়মিত নিয়োগ না দিয়ে নিজের ভাইকে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ওই পদের দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপাধ্যক্ষ পদে একাধিকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও রহস্যজনক কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের পরও কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে অধ্যক্ষ তাঁর ভাইকেই দায়িত্বে বহাল রাখেন।
মাদরাসার আয় বৃদ্ধির জন্য নির্মিত পাঁচটি দোকানঘরেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ তাঁর ভায়রা ভাইকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দোকান বরাদ্দ দেন এবং বাজারমূল্যের তুলনায় নামমাত্র ভাড়ায় দোকান ব্যবহার করতে দেন। এর ফলে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৭ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
এছাড়া অধ্যক্ষ পদে নিজের নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় নিজেই আবেদনকারী হয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সাজানো ইন্টারভিউ বোর্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দোসর, ফ্যাসিস্ট এম পি আ.স.ম ফিরোজ এর সহযোগী হওয়ার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বলে অভিযোগে রয়েছে যাহা সম্পুর্ন আইন বহির্ভূত কাজ। এ নিয়োগে ঘুষ ও জমি লেনদেনের জনপ্রতিশ্রুতির রয়েছে বাউফল এলাকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি আদায়, টিউশন ফি ও ভর্তুকির টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকে আয় ব্যয়ের জমা না রেখে প্রিন্সিপাল এর ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান অর্থ ব্যয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো অডিট না করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী সাবেক দাতা সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার জানান, ৩৫ বছর ধরে দাতা সদস্য থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের গভর্নিং বডি গঠনের সময় তাঁকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবৈধভাবে তালিকা পরিবর্তন করে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য অধ্যক্ষের ভাইকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষের অবসরোত্তর সময়ে তাঁর ভাই আ.খ.ম. রুহুল আমীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা দ্রুত উপরোক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আ.খ.ম. রুহুল আমীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ থেকে বাতিল এবং মাদরাসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সচিব সহ জরুরি সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক এবং উক্ত মাদ্রাসার সাথে জড়িত সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন