নরসিংদীতে নির্বাচনী আচ’রণবিধি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ’তার অভি’যোগ
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
৩
বার পড়া হয়েছে

তালাত মাহামুদ বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী।
জেলা প্রশাসককে কঠোর হুঁশিয়ারি এডভোকেট শিরিন আক্তার শেলীর নরসিংদী-১ (সদর–মাধবদী) আসনে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার অভাব এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসককে প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী।
তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO)-এর ধারা ৯১(ক) এবং সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮ অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকায় নির্ধারিত নিয়মের বাইরে পোস্টার, ব্যানার ও রঙিন প্রচারসামগ্রী প্রদর্শন সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ নরসিংদী-১ আসনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনার আশপাশ এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যেই এসব রঙিন পোস্টার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
এডভোকেট শিরিন শেলী অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পিআরও (Public Relations Officer) নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকলেও, অবৈধ পোস্টার অপসারণ কিংবা বিষয়টি গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর ধারা ৫, ৬ ও ৭ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকদের মাধ্যমে অবৈধ পোস্টার বা ব্যানার প্রদর্শিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা। “এক্ষেত্রে পিআরও’র নীরবতা প্রশাসনিক পক্ষপাতেরই ইঙ্গিত দেয়,”—বলেন তিনি।
সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে এডভোকেট শেলী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। “কিন্তু যখন একটি পক্ষের রঙিন পোস্টার প্রকাশ্যে ঝুলে থাকে আর অন্য পক্ষকে বাধা দেওয়া হয়, তখন তা সরাসরি সাংবিধানিক সমতার পরিপন্থী।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক নির্বাচন কমিশনের অধীন দায়িত্ব পালন করেন। “পিআরওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি কার্যকর করতে ব্যর্থ হন, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
এডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী অবিলম্বে অবৈধ রঙিন পোস্টার অপসারণ, পিআরও’র মাধ্যমে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার এবং সকল প্রার্থী ও প্রতীকের জন্য সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।
গণ অধিকার পরিষদের এই প্রার্থী বলেন,
“ভোটের মাঠে যদি প্রশাসন ও পিআরও নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে—বাস্তবে নয়।”
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন