শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে খুলনার জনসভায় তারেক রহমান
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
৬
বার পড়া হয়েছে

মোঃ শামীম হোসেন – স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে- তারা কখনো দেশপ্রেমিক কিংবা জনদরদি হতে পারে না। এসব শক্তি মূলত দেশের অগ্রযাত্রার অন্তরায়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল সোয়া ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা কাজী আবু নাঈম। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। তারেক রহমান বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। একটি শ্রেণিকে বাদ দিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি তাদের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো জাতির জন্যই কলঙ্ক। তিনি বলেন, লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ আজ তাদেরই অপমান করা হচ্ছে। ইসলামের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে—নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে। তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫–১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এ সময় অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, টানা ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন তো বটেই, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে ইনশাল্লাহ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে। একই সাথে কৃষক ভাইদের জন্যও থকাবে কৃষি কার্ড। এর মাধ্যমে তারা সরকারের কাছ থেকে পাবে নানা ধরণের সেবা ও সুবিধা। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে। কৃষকদের জন্য চালু করা হবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। জনসভায় বক্তৃতা করেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের আলি আসগর লবী, সাতক্ষীরা-১ আসনের হাবিবুর রহমান হাবীব, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বেগম হালিমা আলী, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, খুলনা-১ আসনের আমীর এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাতক্ষীরা-৩ আসনের কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ আসনের আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৪ আসনের ড. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ আসনের ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে, বাগেরহাট-২ আসনের ব্যারিস্টার জাকির হোসেনসহ খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থীরা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন