নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে অস্থিরতা: জামায়াত প্রার্থীর বাসার গেইটে তালা, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ঠেকাতে নেতাকর্মীদের আন্দোলন
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
-
৫
বার পড়া হয়েছে

এইচ এম জাকির হুসাইন নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদী-২ (পলাশ) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতি। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন ভূইয়া যেন কোনো অবস্থাতেই তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন—এই দাবিতে তার নিজ বাসার গেইটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও আন্দোলনে নেমেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পলাশ উপজেলার আমজাদ হোসেন ভূইয়ার বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। একপর্যায়ে তারা বাসার প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে দেয় এবং সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবি জানান—“আমজাদ হোসেন ভূইয়াই নরসিংদী-২ আসনের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী।”
জোট সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ উল্লেখ্য, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনটি ১০ দলীয় জামায়াত জোটের শরীক দল এনসিপি’র প্রার্থী তুষারকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জোটের কেন্দ্রীয় পর্যায়। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের মতামত উপেক্ষা করে জোটের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারা জানান, আমজাদ হোসেন ভূইয়া দীর্ঘদিন ধরে পলাশ এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং দলীয় সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তাই তাকে সরিয়ে অন্য দলকে আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
নেতাকর্মীদের বক্তব্য আন্দোলনরত একাধিক জামায়াত নেতা বলেন,
“আমাদের প্রার্থীকে চাপ দিয়ে বা কৌশলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হলে আমরা তা প্রতিহত করবো। এই আসনে আমজাদ হোসেন ভূইয়ার জনপ্রিয়তা রয়েছে, জনগণ তাকেই দেখতে চায়।”
আরেক নেতা জানান,
“এটা শুধু একটি আসনের প্রশ্ন নয়, এটি ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান ও মূল্যায়নের প্রশ্ন।”
নতুন মোড় না কি রাজনৈতিক কৌশল এ ঘটনায় নরসিংদী-২ আসনের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলছেন, এটি নির্বাচনী রাজনীতিতে হঠাৎ সৃষ্ট এক নতুন মোড়, আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন—এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল, যার মাধ্যমে জোটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করা হতে পারে।
নীরব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিংবা প্রার্থী আমজাদ হোসেন ভূইয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী দিনের প্রভাব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি ১০ দলীয় জোটের ভেতরের সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে চলমান এই পরিস্থিতি নির্বাচনের মাঠে কী প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে—সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন