প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১১, ২০২৬, ২:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১০, ২০২৬, ২:০৮ পি.এম
লাখো ভক্তের ঢলে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ
স্টাফ রিপোর্টার
সাম্য, শান্তি ও মানবতার অনুপম বার্তা ছড়িয়ে দিতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু হয়েছে মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ। দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো আশেকান, জাকেরান ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণে আটরশি পরিণত হয়েছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উরস শরীফের কার্যক্রম শুরু হয়। চার দিনব্যাপী এই বিশ্ব উরস শরীফ চলবে ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটবে।
নান্দনিক সাজ, ধর্মীয় আবহ
উরস শরীফ উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক আলো ও সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃন্দ আটরশিতে সমবেত হয়েছেন এবং প্রতিদিন নতুন নতুন আশেকান-জাকেরানের আগমনে এলাকা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভক্তদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খলভাবে ইবাদত নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইবাদত-বন্দেগি ও জিকির-আজকার
উরস শরীফ উপলক্ষে প্রতিদিন জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ৫০০ বার দরুদ শরীফ নজরানা প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী চলে আধ্যাত্মিক আলোচনা ও বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি।
ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। আটরশির নিরিবিলি পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সা.)-এর সত্য তরিকা ও ইসলামের মূল শিক্ষা প্রচার শুরু করেন। তার সাধনা, ত্যাগ ও আদর্শের ধারাবাহিকতায় আজ আটরশি পরিণত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পুণ্যভূমিতে। ভক্তদের অনুভূতি উরসে আগত ভক্তদের ভাষ্য, বিশ্ব উরস শরীফ কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—এটি আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে অংশগ্রহণ করে তারা মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করছেন বলে জানান।
শান্তিপূর্ণ আয়োজন মহাপবিত্র এই বিশ্ব উরস শরীফ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত