সেনাবাহিনীকে হেয় করার ষড়যন্ত্র জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
-
৮
বার পড়া হয়েছে

মো লুৎফুর রহমান রাকিব স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের সেনাবাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া এই বাহিনী শুধু দেশের সীমানা রক্ষা করেনি, বরং দুর্যোগ-দুর্বিপাকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। এই সেনাবাহিনীই আজ দেশের কিছু দুষ্কৃতিকারী, জঙ্গি এবং অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর নিশানায়।সম্প্রতি সেনাপ্রধানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান ও অবমাননাকর মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে হেয় করে দেশের ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাইরের বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার নোংরা ষড়যন্ত্র চলছে। প্রশ্ন জাগে,কে বা কারা এই অপচেষ্টার নেপথ্যে? উত্তর স্পষ্ট যারা রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে চায়, যারা অবৈধ অস্ত্রের জোরে ক্ষমতার ভাগ চায়, তারাই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই অপতৎপরতায় লিপ্ত।স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতারা সেনাবাহিনীকে কখনও অবমাননা করেননি। কারণ তাঁরা জানতেন, সেনাবাহিনী হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। অথচ আজ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি, মৌলবাদী ও উগ্রবাদী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সেনাপ্রধানকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিচ্ছে। তারা জানেযদি সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা যায়, তবে রাষ্ট্র ভেঙে পড়বে, আর সেই ভাঙনের সুযোগে তারা দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর অবৈধ অস্ত্রের রাজত্ব কায়েম করতে পারবে।ষড়যন্ত্রের আসল চেহারাইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেসব দেশে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা নষ্ট করা হয়েছে, সেসব দেশ অচিরেই অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আফগানিস্তান, সোমালিয়া কিংবা সুদানের দিকে তাকালেই বোঝা যায় সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার পরিণতি কতটা ভয়াবহ। আজ বাংলাদেশে সেই একই নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সেনাপ্রধানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান আসলে জঙ্গি ও অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর ঘৃণ্য পরিকল্পনার অংশ।জনগণের দায়িত্ব জনগণকে বুঝতে হবে সেনাবাহিনীকে হেয় করার মানে পুরো রাষ্ট্রকে হেয় করা। সেনাবাহিনী দুর্বল হলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, স্বাধীনতা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই এখনই প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে সজাগ হতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল একটি বাহিনী নয় এটি জাতির আস্থা, আমাদের স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। আজ যারা সেনাপ্রধানকে অবমাননা করছে, তারা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।সেনাবাহিনীকে সম্মান দেওয়া মানে বাংলাদেশকে সম্মান দেওয়া। আর সেনাবাহিনীকে হেয় করার যেকোনো অপচেষ্টা মানে দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। তাই এই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি।
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন