জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আওয়ামী লীগ নেতার দোসরদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
-
৯
বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক আওয়ামী লীগ নেতার দোসরদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের ডোবা চুরি গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ আমিনুল ইসলাম (পিতা- মোঃ মজিবর রহমান) ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ও এসএ রেকর্ডভুক্ত জমির দখল বজায় রেখে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছিল। সেই সূত্র ধরেই আওয়ামী লীগ নেতার দোসর আনিছুর রহমান, রতন মিয়া, গোলাম রহমান, হানিফ উদ্দিন ও মঞ্জু মিয়ার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিপক্ষকে দমাতে একের পর এক ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ সকাল ৯টার দিকে বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৬-৭ জন সহযোগীকে নিয়ে লাঠি, লোহার রড, ধারালো ছোরা, কোদাল ও মরণঘাতী চাইনিজ কুড়ালসহ সজ্জিত হয়ে জমিতে প্রবেশ করে। এসময় তারা প্রথমে মজিবর রহমানকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটাতে থাকে। পরে ছেলে আমিনুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাকেও একইভাবে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।হামলার একপর্যায়ে ২নং আসামি ধারালো ছোরা দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় কোপ মারতে গেলে তিনি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে তার হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এরপর বুকের উপর বসে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, ফলে তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান। এসময় তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে।চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মফিজুল ইসলাম, আল আমিন, আব্দুল জলিল ও আয়েশা বেগমসহ আরও অনেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। দুর্বল মানুষদের জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দাঙ্গা-সন্ত্রাস চালানো তাদের নিত্যকার কাজে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—“দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার” এখন এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।শুধু ২৬ আগস্ট নয়, পরদিন ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখেও একই চক্র পুনরায় আনিছুর রহমান ও শাহিনুরের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মজিবর রহমান, মমিনুল হক ও আমিনুল হককে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। আবারও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।এলাকাবাসীর দাবি, বারবার এমন নৃশংস হামলা শুধু একটি পরিবারের উপর নয়, গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার- ইন-চার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন