প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৩০, ২০২৫, ১০:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৪, ২০২৫, ৫:২৭ পি.এম
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন পরিণত হয়েছে মাদকের আখড়ায়
মোঃ আনোয়ার হোসেন শেরপুর প্রতিনিধি।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পরিত্যক্ত ভবন দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আখড়ায় রূপ নিয়েছে। এক সময়ের কর্মচাঞ্চল্যে ভরা তিন তলা বিশিষ্ট কোয়ার্টারটি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। আর সেই সুযোগে প্রতিরাতেই সেখানে বসছে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আসর। এতে হাসপাতাল এলাকা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনের প্রতিটি কক্ষে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে মদের বোতল, সিগারেটের প্যাকেট, ইয়াবা সেবনের আলামত, দিয়াশলাই, গর্ভনিরোধক সামগ্রীসহ নানা সরঞ্জাম। এমনকি নারীদের পোশাকও পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। ফলে এটি শুধু মাদক নয়, বরং অনৈতিক কার্যকলাপের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পরপরই দল বেঁধে মাদকসেবীরা ভবনে প্রবেশ করে। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়েই অধিকাংশ সময় তাদের অবাধ যাতায়াত ঘটে। অথচ বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরভাবে দমন করতে পারছে না।স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রুহুল সিদ্দিকী রুমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেনপ্রতিদিন এখানে মাদকের সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এত গুরুতর বিষয়েও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেনি। আমরা চাই হাসপাতাল যেন নিজের দায়িত্বে অবহেলা করে একদিন রোগীতে পরিণত না হয়।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ জানানবিষয়টি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। আমরা পুলিশের নিয়মিত টহলের জন্য অনুরোধ করেছি।নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেনএর আগেও ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেনস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি সংরক্ষিত ও জনসেবামূলক স্থানে মাদককাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।সচেতন সমাজের অভিমত, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে, সেখানে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি শুধু নালিতাবাড়ী নয়, গোটা জেলার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার, পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার বা অন্য কাজে ব্যবহার এবং নিয়মিত পুলিশের নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনটি যত দ্রুত সম্ভব সঠিকভাবে কাজে লাগানো না হলে মাদকসেবীদের আখড়া হিসেবে এ ভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়বে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে শিগগিরই এই মাদকের আখড়া বন্ধ হবে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক সেবা পরিবেশ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত