বরিশাল বিভাগের দুমকি সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় নদীর পানি বৃদ্ধি ও অবিরাম বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির বীজ নষ্ট কৃষকগন ক্ষতিগ্রস্থ
প্রতিনিধির নাম :
-
প্রকাশিত:
শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
-
৯১
বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবু ছালেহ বিপ্লব //বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান //
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ঘুরে দেখে গিয়েছে যে, বরিশাল আমাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহ পটুয়াখালী, দশমিনা, বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, ভোলা, রাংগাবালী, বরগুনা
দুমকি উপজেলায়, অবিরাম বর্ষণ ও উপচেপরা জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে রয়েছে ফলে অনেক যায়গায় দেখা গিয়েছে নদীর তীরবর্ত্তী লোকজন এর ঘরবাড়ী, গবাদিপশু এবং প্রচুর কবরস্থান ভেংগে কবরস্থান এর ভীতরে পানি এবং অনেক কবরস্থান পানির নিচে ডুবে রয়েছে।অতিরিক্ত উজানের পানি ও টানা ভারী বৃষ্টি পাতের ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং গবাদিপশু সহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান এবং আমন বীজতলা।৫দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার অনেক জেলা উপজেলার এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ-ঘাট ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। শনিবার (৫ জুলাই) রাতে বরিশাল, ভোলা, বাকেরগঞ্জ, বাউফল, পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে লেবুখালী ফেরীঘাটের পশ্চিমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা ভেরিবাঁধ সহ বিভিন্ন পয়েন্টে ২০-২৫টি পয়েন্টে বাঁধ ধসে পানি প্রবেশ করে ওই এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ৫-৬ ফুট উচ্চতার পানিতে ওইসব এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে মাঠ-ঘাট ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান এবং আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশীরভাগ বীজতলাই ২/৩ফুট পানির নীচে চলে যাওয়ায় ক্ষেতের বীজ নস্ট হওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের।এ ছাড়া তেতুলিয়া, মেঘনা, পায়রা, কৃর্তনখোলা, সহ লোহালিয়া নদীর বৃদ্ধি পাওয়া জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বরিশাল সদর সহ বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠী, বরগুনা, ভোলা, বাকেরগঞ্জ, বাউফল, আমতলী, কলাপাড়া, আমতলী, বরগুনা, মির্জাগঞ্জ, দুমকী, গলাচিপা, দশমিনা, বগা ও চরগরবদি ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে। জোয়ারের সময় ঘাটের পন্টুনসহ আশপাশ ডুবে যায়। ৫-৬ ফুট পানি থাকায় কোন যানবাহন ফেরিতে উঠতে পারছে না। ফলে জোয়ারের সময় বাউফল-দুমকি-পটুয়াখালী ও বরিশালসহ বিভিন্ন রুটের যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দূর পাল্লার পরিবহন কোন মতে সাতরে পারাপার হলেও ছোট খাটো যানবাহন ফেরীতে ওঠতে না পারায় ৪/৫ ঘন্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।এরই ফলে অবর্ননীয় ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে ওইসব আভ্যন্তরীণ রুটের যানবাহন গুলোর। এদিকে দিনরাত টানা বৃষ্টি আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে জনজীবনে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।দুমকী গ্রামের কৃষক ছালাম মুনসী, চরবয়ড়া গ্রামের কৃষক, বাবুল,বসির, জানায়, জলাবদ্ধতায় তাদের সবগুলো আমনের বীজতলা ৩/৪ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। এতে আমনের বীজ সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা। একই অভিযোগ, শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক জাফর, দুলাল সহ অনেকের। চরগরবদি ফেরিঘাটের কৃষক সেরাজ জানান জানান, লোহালিয়া নদীর উপচেপড়া জোয়ারের পানিতে ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় ফেরী পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে । দূরপাল্লার পরিবহন বাস কোনমতে ফেরীতে ওঠতে সক্ষম হলেও মাইক্রো, পিকআপসহ ছোট ছোট যানবাহন পারাপারে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। ভাটায় পানি কমে গেলে পারাপার হতে হয়। এতে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভেগি পোহাতে হচ্ছে তাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার কৃষকগন জেলা প্রশাসক মহোদয়, কৃষি কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা ও কৃষি উপদেষ্টা মন্ডলী ও প্রধান উপদেষ্টা মন্ডলীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় জনসাধারণ।
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন